হাসান মোর্শেদ, দীঘিনালা:
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ৩ নং কবাখালী ইউনিয়ন এর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হাচিনসনপুর এলাকায় মাইনী নদীর উপশাখার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ইট-সলিং করা চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাকোর উপর দিয়েই প্রতিদিন পারাপার করছে কোমলমতি শিক্ষার্থী, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ।
রবিবার (২০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর ভাঙনে ধসে যাওয়া স্থানে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। অস্থায়ীভাবে তৈরি একটি বাঁশের সাকোর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে স্থানীয়রা। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের এই পথে চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রিয়াদ জানায়, “এই রাস্তাটিই আমাদের স্কুলে যাওয়ার একমাত্র পথ। কিছুদিন আগে সাকো পার হতে গিয়ে পড়ে গিয়েছিলাম, ভাগ্য ভালো ছিল বলে বড় দুর্ঘটনা হয়নি।”
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, “৪০ ফুট রাস্তাই ধসে গেছে, কিন্তু সেটি সংস্কার না করায় কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ রাস্তাটি মেরামত হলে শত শত পরিবার উপকৃত হবে।”
আরেক বাসিন্দা জাহানারা বেগম অভিযোগ করেন, “আমরা বহুবার স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানদের জানিয়েছি। তারা এসে দেখে গেছেন, আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু আজও কোনো কাজ হয়নি।”
৩ নম্বর কবাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা (জ্ঞানো) বলেন, “আমি রাস্তাটির সমস্যার কথা জানি। সংস্কারের চেষ্টা চলছে, তবে বাজেট স্বল্পতা বড় বাধা। এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সহযোগিতা করলে দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হবে।”
এ বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, “আপনাদের মাধ্যমেই আমি বিষয়টি প্রথমবার জানলাম। যদিও রাস্তাটি আমাদের আইডিতে নেই, তবুও মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে একদিন বড় কোনো প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই জনদুর্ভোগ লাঘব করতে।